আমার জীবনের সবচেয়ে খারাপ এক্সপেরিয়েন্স যদি হয়ে থাকে আমার জামালপুর জেনারেল হাসপাতালটা দেখে হলো-বিমানমন্ত্রী

জামালপুর প্রতিনিধি | প্রকাশিত: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ |   

জামলপুরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেছেন, আমার জীবনের সবচেয়ে খারাপ এক্সপেরিয়েন্স যদি হয়ে থাকে আমার জামালপুর জেনারেল হাসপাতালটা দেখে হলো। এখানে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল এটি অনেক আগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। বেগম খালেদা জিয়া এটাকে করেছিলেন।

এই হাসপাতালে যেখানে ২৫০ রোগী থাকার কথা, সেখানে আজকে ৮৬৭ জন রোগী আছে। রোগীদের যে অবস্থা, এই অবস্থা আমি দেখে খুবই বিষ্মিত এবং আমার জীবনে আর কখনো এরকম চিত্র চোখে পড়ে নাই। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জামালপুরে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। বিমান মন্ত্রী আরো বলেন, এরকম হাসপাতাল বাংলাদেশের কোথাও আছে, এটা আমার মনে  হয় না, আমার জানা নাই, থাকার কথাও না। এই হাসপাতালের  বিল্ডিংটাকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে ২০২১ সালে। তারপরেও এখানে রোগী আছে। এখন এর কারণ কী জিজ্ঞেস করতে পারেন? কারণটি হলো, আমি যেটা জানতে পারলাম, এইখানে যে ফ্যাসিষ্ট সরকার ছিল, এখানে একজন প্রতিমন্ত্রী ছিল। এখানে একটা মেডিকেল কলেজ হয়েছে, সেখানে ৫০০ বেডের একটা হাসপাতাল হওয়ার কথা। সে ৫০০ বেডের হাসপাতালের টেন্ডারও হয়েছিল, সে টেন্ডারটি যোগসূত্র প্রতিমন্ত্রী এবং কন্ট্রাক্টরের মধ্যে ঠিক মতো হয় নাই জন্য সে কাজটি বন্ধ করা ছিল। কত অমানবিক, কত নিকৃষ্ট মানুষ হলে এ ধরনের কাজ করতে পারে এটা আমার জানা নাই।

আমি খুবই আশ্চর্য এরকম হাসপাতাল আমি জীবনেও ভিজিট করি নাই। এখানে যারা কর্মকর্তা রয়েছেন, তাদের অনেক গাফিলতি আছে। তারা সে বিগত ফ্যাসিস্ট আমলের গাফিলতিকে এখনো টানছেন, সেটা ঠিক নয়। আমি মনে করি যে, এই হাসপাতালটা খুবই তাড়াতাড়ি ৫০০ বেডের যেটা অনুমোদন হয়ে আছে, সেটাকে বিল্ডিং করতে দেওয়া হয় নাই সেটা করা উচিত। আমি আজকে ভিজিট করে সেটা জানতে পারলাম যে এটা প্ল্যানিং কমিশনে আছে সময় বর্ধনের জন্য। সময় বর্ধন করে ৫০০ বেড হাসপাতাল করার জন্য আমি নিজে প্ল্যানিং কমিশনে, প্ল্যানিং কমিশনের সচিব এবং প্ল্যানিং এর দায়িত্বে প্রতিমন্ত্রীরকে অনুরোধ করব। যাতে এটাকে সময়টা বর্ধন করে খুব শিগগিরই টেন্ডারটা করা হয়। আর আমার কাছে একটা জিনিস ডাউট হয়েছে, সেটা আমি তদন্ত করব। যে এখানে রোগীদের জন্য খাবার-দাবার এবং সরঞ্জামাদি সরবরাহ করা হয়। সে টাকাগুলি সঠিকভাবে এখানে রোগীদের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে কি না, সে জিনিসটাও আমি দেখব। আমি এরপরে একটা মিটিং করব, সমন্বয় মিটিং, সে সমন্বয় মিটিংয়ে আমি জিজ্ঞেস করব, যারা যারা দায়ী ব্যক্তি আছেন, যারা যারা এই কাজটা করেন নাই, তারা কেন সাজাপ্রাপ্ত হবেন না, এটাও আমি জিজ্ঞেস করব। জামালপুরে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শনে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত, জেলার সিভিল সার্জন ডা: মোহাম্মদ আজিজুল হক, জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মোহম্মদ মাহফুজুর রহমান, পুলিশ সুপার মোছা: ফারহানা ইয়াসমিনসহ দলীয় নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


মন্তব্য লিখুন :


আরও পড়ুন