দীর্ঘ এক যুগ জাল সার্টিফিকেট দিয়ে সরকারি চাকরিতে

ফুলতলা উপজেলা পরিষদের গাড়ীর চালক ইমরানের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে ঃ ইউএনও সূচি রানী সাহা

মো. আবু হামজা বাঁধন, বিশেষ প্রতিনিধি : | প্রকাশিত: ০৬ নভেম্বর ২০২৫ |   
শাহ মো. ইমরান হোসেন

ফুলতলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের গাড়ীর জন্য নিয়োগকৃত চালক শাহ মো. ইমরান হোসেন দীর্ঘ এক যুগের অধিক সময় ধরে জাল সার্টিফিকেট দিয়ে চাকরি করে আসছেন এ উপজেলায়। বিষয়টি নিয়ে সদ্য যোগদানকৃত উপজেলা প্রশাসক ও ইউএনও সূচি রানী সাহা জানান, বিষয়টি তদন্তনাধীণ রয়েছে। 

জানা যায়, ২০১২ সালে ফুলতলা উপজেলা পরিষদে গাড়ীর চালক পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। এ সময় ইমরান হোসেন নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে উত্তীর্ণ হন। চাকরির সময় উপজেলায় যে শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ প্রদান করেন সেটি ছিলো  খুলনার দৌলতপুর আফিল উদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর প্রত্যায়নপত্র। গত ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের পর কে বা কারা ইমরানের ভ‚য়া সার্টিফিকেটের বিষয় সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবগত করেন। সাবেক ইউএনও তাসনীম জাহান এ বিষয়টি নিয়ে তদন্তের দায়িত্ব প্রদান করেণ ফুলতলা উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. তরিকুর রহমানকে। তদন্ত শেষে তরিকুর রহমান ইউএনওকে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেন। সেই তদন্ত রিপোর্টে স্পষ্ট উল্লেখ করেণ ইমরান দৌলতপুর আফিল উদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের  কোন শিক্ষার্থী ছিলেন না। 

তথ্যমতে আরও জানা যায়, সার্টিফিকেট জাল জালিয়াতির বিষয় নিয়ে সাবেক ইউএনও তাসনিম জাহান ইমরানকে তলব করলে, ইমরান মুহুর্তের মধ্যে ভোল পাল্টিয়ে বলেন , আমি আফিল উদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে অষ্টম শ্রেণী পাশ করেনি । আমি খানজাহান আলী থানা এলাকার আটরা শ্রী-নাথ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ১৯৯৫ সালে ৮ম শ্রেনী পাশ করেছি এবং সেই সার্টিফিকেট জমা দিয়েছি। 

এরই মধ্যে ইউএনও তাসনীম জাহানের বদলি হওয়াতে ইমরানের বিষয়টি অনেকটা ধামা চাপা পড়ে যায়। কথাই বলে ধর্মের কল বাতাসে নড়ে। তাই ইমরান হোসেনের বিষয় স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা অনুসন্ধান চালায়। ইমরানের কথা মত সেই আটরা শ্রী নাথ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে খোঁজ নেওয়া হয় আদৌ কি ইমরান এই স্কুলের ছাত্র ছিলো কি না? । তবে এ বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য আটরা শ্রী নাথ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহসিন বিশ্বাস জানান, ইমরান হোসেন , পিতা-টিপু সুলতান নামে কোন শিক্ষার্থী আটরা শ্রী নাথে  স্কুলে ছিলো না। 

এখন ইমরান হোসেনের জাল সার্টিফিকেট দিয়ে সরকারি চাকরি করার সকল তেলেসমতি বন্ধ হয়ে যায়। অবশেষে সত্য উম্মোচিত হলো। বিষয়টি ফুলতলা উপজেলা পরিষদের বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সূচি রানী জানান, ইমরানের বিষয় আগের থেকেই তদন্তনাধীন রয়েছে, সকল সত্যতা মিললে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

খুলনা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের উপ-পরিপরিচালক (স্থানীয় সরকার) মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, উপজেলা পরিষদের গাড়ী চালকের বিষয় সকল সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার একমাত্র উপজেলার ইউএনওর। তবে আমি অবগত হলাম এবং ইউএনওকে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলব।  চালক ইমরান হোসেন এর সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমি চাকরিতে আটরা শ্রী নাথ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেনী পাশের সার্টিফিকেট দিয়েছি। আর আমি সত্যিই এ বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলাম। ভ‚ঁয়া সার্টিফিকেট দিয়ে চাকরি করার প্রশ্নই আসে না। 



মন্তব্য লিখুন :